সব কোম্পানির প্লান্ট থেকে এলপিজি উত্তোলন বন্ধ থাকবে এমন নোটিশ জারি করেছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার সন্ধ্যায় সারা দেশের পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের উদ্দেশে জারি করা নোটিশে বলা হয়, আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে সব ধরনের এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে সব কোম্পানির প্লান্ট থেকে এলপিজি উত্তোলনও স্থগিত থাকবে।
এর আগে বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের দাবি তুলে ধরে এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতি। সেখানে তারা জানায়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি মানা না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ করা হবে। এরপর সন্ধ্যায় বিক্রি বন্ধের আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) থেকে নতুন করে এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসনের মাধ্যমে পরিবেশকদের হয়রানি ও জরিমানা বন্ধের দাবি জানানো হয়।
বুধবার রাত ১১টার দিকে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম খান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ থাকবে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বিইআরসির সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে দাবি মেনে নেওয়া হলে বিক্রি পুনরায় শুরু হবে, অন্যথায় বিক্রি বন্ধ থাকবে।
প্রসঙ্গত, প্রতি মাসে এলপিজির মূল্য সমন্বয় করে বিইআরসি। সর্বশেষ গত ৪ জানুয়ারি নতুন মূল্য ঘোষণা করে সংস্থাটি। এ বিষয়ে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পরিবেশকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এতে এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট নিরসনের পরিবর্তে দাম নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, ভোক্তা অধিকার অভিযান চালিয়ে বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে, যার ফলে অনেক পরিবেশক ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। জ্বালানি বিভাগ, বিইআরসি ও এলপিজি কোম্পানিগুলোর সমন্বয়ে আমদানি সমস্যা সমাধানই সঠিক পথ ছিল বলে দাবি করে সমিতি।
এছাড়া পরিবেশক কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ টাকা করার দাবিও জানানো হয়েছে।


















