সিলেট আদালত প্রাঙ্গণে খবর সংগ্রহের সময় সাংবাদিকের ওপর হামলা ও মোবাইল ভাঙচুরের ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর ও বালু লুট মামলায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আবদুল ওয়াদুদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট আদালত প্রাঙ্গণে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে আলফু মিয়ার রিমান্ড শুনানি চলছিল। এ খবর সংগ্রহ করতে সেখানে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে যান। ভিডিও করার সময় ‘ইমজা নিউজ’ ও বেসরকারি টেলিভিশন ডিবিসির সাংবাদিকের মোবাইলফোন ও ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে তাদের মারধর করা হয়।
আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আবদুল ওয়াদুদ (আলফু) আদালত চত্বরে পুলিশ হেফাজতে থেকে সাংবাদিকের ওপর হামলা চালায় । এ সময় তিনি সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে ভেঙে ফেলেন। একই সময়ে ওয়াদুদের ছেলে আরেক সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও মুছে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রিমান্ড শুনানির প্রাক্কালে আদালত প্রাঙ্গনে আলফু মিয়া পুলিশের সামনেই সাংবাদিক নয়নের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। এ দৃশ্য ধারণ করতে গেলে আরেক সাংবাদিকদের হাতে থাকা ক্যামেরা কেড়ে নেন। এ নিয়ে ধস্তাধস্তির সময় সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনাও ঘটে। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে থাকলেও তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাংবাদিক নয়ন সরকারের অভিযোগ, ‘আমি খবর সংগ্রহ করছিলাম। হঠাৎ আলফু মিয়ার ছেলে আমার ওপর হামলা করে। এরপর পুলিশের সামনেই হাতকড়া পরা অবস্থায় আলফু নিজেই আমার মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়।’
জানা গেছে, সাদাপাথর লুটকাণ্ডের আরেক হোতা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও তেলিখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আব্দুল অদুদ ওরফে আলফু মিয়াকে গত ৪ অক্টোবর কোম্পানীগঞ্জ থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আলফুর বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সাদাপাথর লুটের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাথমিক অনুসন্ধানে লুটেরা তালিকার ২৬ নম্বরে আলফু মিয়ার নাম রয়েছে।
এদিকে, আদালত প্রাঙ্গনে আসামির এমন আস্ফালনের ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার সময় পুলিশের দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
হামলার শিকার ইমজা নিউজের সাংবাদিক বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন। এতে আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আবদুল ওয়াদুদ, তাঁর ভাই ও ছেলে কাজী বায়জিদ আহমেদ-কে আসামি করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, `মামলার প্রধান আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’


















