বিএনপির রাজনীতিতে সিলেটের জনপ্রিয় ও অভিজ্ঞ নেতা সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন— তিনি সিলেটের মানুষ, এবং সিলেটের হয়েই থাকতে চান। দলের সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত বলে মেনে নিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা জানিয়েছেন।
মনোনয়ন না পেলেও তাঁর আনুগত্য, সংযমী আচরণ ও রাজনৈতিক পরিপক্বতা এখন সিলেটের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট-১ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন এবং মনোনয়নের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। তবে সোমবার ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় তাঁর নাম না থাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা শুরু হয়।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে ১৪টির প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন। সিলেট-১ আসনে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান বিএনপি চেয়ারপারসনের অপর উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির— যিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
মনোনয়ন তালিকা প্রকাশের পর রাতেই নগরীর কুমারপাড়ায় আরিফুল হকের বাসায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকেই তাঁকে পরামর্শ দেন— যেহেতু সিলেট-৪ আসন এখনো খালি রয়েছে, চাইলে তিনি সেখান থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন। তবে ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তিনি এ প্রস্তাবে আগ্রহ দেখাননি।
দলের একটি সূত্র জানায়, সোমবার রাতেই তাঁকে জরুরি বৈঠকের জন্য ঢাকায় ডাকা হয়। মঙ্গলবার সকালে প্রথম ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে তাঁকে বিকল্প আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেন।
গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়ায় আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “আমি সিলেটের মানুষ, সিলেটের হয়েই থাকতে চাই। কেন্দ্র যে সিদ্ধান্ত ভালো মনে করেছে, সেটাই আমার কাছে চূড়ান্ত। দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ বা দাবি নেই।”
দলের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দল চায় আরিফ ভাই অন্য আসন থেকে লড়ুন, কিন্তু তিনি তাতে আগ্রহী নন। তিনি কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকেই মেনে নিয়েছেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সিলেট-৪ আসনে এখনো প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায় সেখানে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। তবে আপাতত আরিফুল হক চৌধুরী দলের সিদ্ধান্তের প্রতিই অনুগত রয়েছেন এবং কোনো বিকল্প আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি।
সিলেটের রাজনীতিতে দুই মেয়াদে সিটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নগরবাসীর আস্থা অর্জন করেছেন আরিফুল হক চৌধুরী। তাই মনোনয়ন না পাওয়া এবং বিকল্প আসন থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত এখন সিলেটের রাজনীতির আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।


















