হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গত জানুয়ারির উত্তপ্ত ঘটনার পর আলোচনায় আসা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান বর্তমানে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করছেন। তিনি ফিনল্যান্ডে যাওয়ার জন্য ভিসা আবেদন সংক্রান্ত কাজে সেখানে গেছেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে দিল্লিতে অবস্থানকালে তার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ১ জানুয়ারি রাতে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল হাসান নয়নকে আটক করে। পরদিন তাকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় যান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসানসহ কয়েকজন নেতা-কর্মী। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে মাহদী হাসানকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও আন্দোলন প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে শোনা যায়। বক্তব্যে তিনি মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন সরকারের কথাও উল্লেখ করেন। ওই বক্তব্য ঘিরে সমালোচনা শুরু হলে পরদিন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সামাজিক মাধ্যমে মাহদী হাসানের একটি নতুন ভিডিও প্রকাশ পায়। ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্ট এক প্রতিবেদনে জানায়, ভিডিওটি বিভিন্ন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু পোস্টে তাকে আক্রমণাত্মক ভাষায় উল্লেখ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে চেয়ারে বসে আছেন মাহদী। তার পেছন থেকে কেউ ভিডিও ধারণ করছেন। মাহদীর দাবি, দিল্লির একটি ভিসা আবেদন কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় অজ্ঞাত ব্যক্তি ভিডিওটি ধারণ করেন। পরে হোটেলে ফেরার পর তিনি অপরিচিত নম্বর থেকে কল ও বার্তা পেতে শুরু করেন। তার অভিযোগ, তার অবস্থান ও ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মাহদী হাসান জানান, তিনি ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ড-এ যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি-তে গিয়েছেন এবং ভিসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
শায়েস্তাগঞ্জ থানার ঘটনার পর থেকেই মাহদী হাসানকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলমান। দিল্লিতে তার অবস্থান ও ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

















