বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের (এমসি-১৪) সাইডলাইনে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল রবিবার (২৯ মার্চ) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরো জোরদারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে উভয় পক্ষ।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে ইইউ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন কমিশনার মারোস সেফকোভিচ। উপস্থিত ছিলেন ট্রেড ডিরেক্টর জেনারেল সাবিন ওয়েয়ান্ডসহ সংশ্লিষ্টরা।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউর অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরো সম্প্রসারণে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে দেশের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যা টেকসই প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।
শ্রম খাতে সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে এবং সংশোধিত শ্রম আইন শিগগিরই প্রণয়ন করা হবে।
ইইউর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণে সময় বৃদ্ধির অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়। পাশাপাশি শ্রম খাতে চলমান সংস্কারের প্রশংসা করা হয়। প্রস্তাবিত এফটিএ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া শেষে মূল্যায়নের কথাও জানানো হয়।
আসন্ন স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ প্রসঙ্গে প্রস্তুতিমূলক সময়সীমা আরো তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানান মন্ত্রী। তাঁর মতে, এতে রপ্তানি প্রতিযোগিতা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবেলা সহজ হবে। একই সঙ্গে ইইউর সঙ্গে দ্রুত একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী আরো জানান, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন করেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ ও সিইপিএ নিয়ে আলোচনা চলছে।
বৈঠকে উভয় পক্ষই বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সমতাভিত্তিক পরিবেশ, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে।
ইইউ ভারসাম্যপূর্ণ সম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, আর বাংলাদেশ বৈষম্যহীন ও ন্যায়সংগত আচরণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
বৈঠক শেষে ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখা এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয় বাংলাদেশ ও ইইউ।


















