সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আতিক মিয়া (৪২) নামে এক সাবেক ইউপি সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার বিকেলে উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম সিরাজনগর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম সিরাজনগর গ্রামের আকলিছ মিয়া ও আব্দুল ওহাব ওরফে পাছুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতো।
বুধবার দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ চলে গেলে স্থানীয়দের উদ্যোগে ওই রাতেই উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি আপোষ-মীমাংসার শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
শালিস বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথে শালিস ব্যক্তিত্ব সাবেক ইউপি সদস্য আতিক মিয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল ওহাব ওরফে পাছুর পক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে আতিক মিয়ার মাথা ও বুকে উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
নিহতের পিতা মাহমুদ আলী অভিযোগ করে বলেন, “দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ায় আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আব্দুল ওহাব ওরফে পাছু, তার ছেলে, আত্তার আলী, মঞ্জু মিয়া, মিজান মিয়া ও মুকিদসহ আরও কয়েকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমি এ হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোরশেদুল হাসান ভূঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১২ জনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


















