সিলেট জেলা বিএনপির সদস্য এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক, পাশাপাশি সিলেট-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরী সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেওয়া দীর্ঘ এই বার্তায় তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অতীতের অভিজ্ঞতা এবং ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২০২৬ সালে বিএনপির রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসা নেতা-কর্মীদের জন্য আনন্দের বিষয়। একই সঙ্গে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
রাজনীতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি ১৯৯১ সালের প্রসঙ্গ টানেন। তার ভাষায়, সে সময় অনেকেই ধারণা করেছিলেন দল দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকবে, কিন্তু বাস্তবে ত্যাগী কর্মীদের সরিয়ে সুবিধাবাদীদের জায়গা করে দেওয়ার কারণে পরবর্তী সময়ে দলকে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়।
তিনি ১৯৯৬ সালের একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিও উল্লেখ করেন। ওই সময় তার মায়ের মৃত্যুর দিনে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাকে ও তার পরিবারকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল বলে জানান। এছাড়া অপারেশন ক্লিন হার্ট চলাকালে বহু নেতা-কর্মী নিহত বা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও তিনি বলেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে কিছু নেতার আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, ত্যাগী কর্মীদের প্রতি অবহেলা এবং হুমকি-ধমকির প্রবণতা বেড়েছে। তার মতে, প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠরা মাঠপর্যায়ে প্রভাব খাটাচ্ছেন, যা দলের জন্য উদ্বেগজনক। এ প্রসঙ্গে তিনি একটি প্রবাদ উল্লেখ করেন—“বাবু যত বলে, পারিষদ তার বলে শতগুণ।”
তিনি আরও দাবি করেন, কিছু সংসদ সদস্য দলীয় ত্যাগী নেতাদের পাশ কাটিয়ে বিতর্কিত নির্বাচনে নির্বাচিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উন্নয়ন বরাদ্দ বিতরণ করছেন, যা ভবিষ্যতের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি কয়েকটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, ক্ষমতা স্থায়ী নয় এবং ক্ষমতা হারালে তার মূল্য চোকাতে হয়। পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্বার্থ পরিহার করে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানান। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সংঘাত এড়িয়ে চলার পরামর্শও দেন।
সবশেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা কিছু ব্যক্তি নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে তৃণমূলের কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেন। তাই দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে ঐক্যের বিকল্প নেই।

















