মনোনয়নপত্র জমার সময় ঘনিয়ে আসায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আসন বণ্টনকে কেন্দ্র করে তীব্র দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। বিএনপি তার শরিকদের সঙ্গে আলোচনা শেষ করার পর জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ ও বৈঠকের তথ্য সামনে এসেছে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বাসায় যান। আনুষ্ঠানিকভাবে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলা হলেও, দুই দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে—আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জামায়াত সূত্র জানায়, দলটি তিন দফা জরিপের ভিত্তিতে আসন বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং দুই শতাধিক আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এনসিপি, এবি পার্টিসহ মিত্রদের জন্য প্রায় ৮০টি আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
জোট আলোচনায় উত্তেজনা বাড়িয়েছে শরিক দলগুলোর উচ্চ আসন দাবি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১০০ আসন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস অন্তত ২৫টি আসনের দাবি জানালেও জামায়াত এসব দাবিতে এখনো চূড়ান্ত সম্মতি দেয়নি। কয়েকটি দল এমন শর্তও দিয়েছে—প্রত্যাশিত আসন না পেলে তারা সমঝোতা থেকে সরে যাবে।
এনসিপি–জামায়াত জোট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) ফেসবুকে লিখেছেন, “তারুণ্যের রাজনীতির কবর রচিত হতে যাচ্ছে। এনসিপি অবশেষে জামায়াতের সঙ্গে সরাসরি জোট বাঁধছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, প্রাথমিকভাবে এনসিপি ৫০টি আসন চাইলেও আলোচনা শেষে তা কমে ৩০ আসনে দাঁড়িয়েছে। জোটের শর্ত অনুযায়ী, বাকি ২৭০ আসনে এনসিপি কোনো প্রার্থী দেবে না এবং জামায়াতকে সমর্থন করবে। পাশাপাশি প্রতিটি আসনের জন্য এনসিপিকে ১.৫ কোটি টাকা নির্বাচনী সহায়তা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সমঝোতা অনুযায়ী, এনসিপির ৩০ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন জামায়াতের পক্ষে ডা. আবদুল্লাহ মো. তাহের এবং এনসিপির পক্ষে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এছাড়া, জোটের অঘোষিত সমঝোতায় নির্বাচনে জয়ী হলে নাহিদ ইসলামকে প্রধানমন্ত্রী অথবা বিরোধী দলীয় নেতা করার পরিকল্পনার কথাও আলোচনায় এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই জোট সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে তরুণ রাজনীতিবিদ ও কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে, যা সামনের দিনে রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে।


















