টিকিট যার ভ্রমণ তার’ নীতিকে কার্যকর করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর অংশ হিসেবে টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স গত ১৭ দিনে ২০২টি মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে। এসব নম্বর রেলওয়ের অনলাইন টিকিট রেজিস্ট্রেশন থেকে ব্লক বা বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, টিকিট বিক্রি সম্পূর্ণ অনলাইনে চলে যাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে কালোবাজারি বেড়ে যায়। যাত্রার ১১ দিন আগে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই বেশিরভাগ টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোর আগ-পরে টিকিট পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে। সম্প্রতি ঢাকা–কক্সবাজার রেলপথ চালুর পর সেই সুযোগে একটি চক্র একাধিক নামে রেজিস্ট্রেশন খুলে টিকিট কিনে বেশি দামে সাধারণ যাত্রীদের কাছে বিক্রি করছে।
যাত্রীদের অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার পর রেলওয়ে প্রশাসন কঠোরভাবে ‘টিকিট যার ভ্রমণ তার’ নীতি বাস্তবায়নে নেমেছে।
রেলের সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা যায়, শুরুতে পূর্বাঞ্চলে ১৩টি ও পশ্চিমাঞ্চলে ১৪টি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। ট্রেনের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পূর্বাঞ্চলের টাস্কফোর্স পরবর্তীতে বাড়িয়ে ১৬টিতে উন্নীত করা হয়। এই টাস্কফোর্সগুলো ৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ২০২টি মোবাইল নম্বরকে টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে চারটি নম্বর বিভিন্ন ফোন-ফ্যাক্স ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বলে প্রমাণ মেলে।
এ বিষয়ে রেলওয়ে ‘সহজ-সিনেসিস-ভিনসেন (জেভি)’ কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়ে ওইসব নম্বর স্থায়ীভাবে ব্লক করার নির্দেশ দিয়েছে।
২৩ অক্টোবর সহজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়—টাস্কফোর্সের চেকিং কার্যক্রমে যাত্রীদের পরিচয়পত্র যাচাইয়ের সময় বহু কালোবাজারি মোবাইল নম্বর ধরা পড়ে। এসব নম্বর ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুবক্তগীন বলেন,
“অনলাইন বা অফলাইন—যেখানেই টিকিট কালোবাজারি হোক, রেলওয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। টাস্কফোর্সের অভিযান চলমান থাকবে। যাত্রীরা যেন নিজেদের আইডি ব্যবহার করে টিকিট কিনে নির্ভয়ে ভ্রমণ করতে পারেন, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক।”
তিনি আরও দাবি করেন, ‘টিকিট যার ভ্রমণ তার’ নীতির কারণে এখন অনলাইন ও অফলাইনে পর্যাপ্ত টিকিট পাওয়া যাচ্ছে।


















