আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) হেভিওয়েট প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
শনিবার (____ জানুয়ারি) বিকেলে আপিল শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে। একই সঙ্গে এই আসনে ‘১০ দলীয় নির্বাচনী জোট’ থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত এনসিপির আলোচিত প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বৈধ বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী জোটপ্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবিতে ইসিতে আপিল করেছিলেন। তবে কমিশন তার আবেদন নামঞ্জুর করে। অপরদিকে হাসনাত আব্দুল্লাহর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় নির্বাচনী মাঠে তিনি বড় ধরনের সুবিধাজনক অবস্থানে চলে গেছেন।
এই রায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসনাত আব্দুল্লাহর সমর্থকরা একে ‘বিজয়ের পথে একধাপ এগিয়ে যাওয়া’ হিসেবে দেখছেন এবং তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। তবে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর সামনে এখনো উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ খোলা রয়েছে।
অন্যান্য প্রার্থী
বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলেও দেবীদ্বার আসনে হাসনাত আব্দুল্লাহর জন্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের সুযোগ নেই। এই আসনে আরও কয়েকজন সক্রিয় প্রার্থী রয়েছেন—
- ইরফানুল হক সরকার (ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ)
- মোহাম্মদ মজিবুর রহমান (খেলাফত মজলিস)
- মো. আবু জসিম উদ্দিন (গণঅধিকার পরিষদ–জিওপি)
- মোফাজ্জল হোসেন (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)
এদিকে কুমিল্লা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামী কোনো প্রার্থী দেয়নি। দলটির নেতা সাইফুল ইসলাম শহীদ জোটের স্বার্থে হাসনাত আব্দুল্লাহকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
অন্যদিকে খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের’ শরিক হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাদের প্রার্থীরাও মনোনয়ন প্রত্যাহার করে হাসনাত আব্দুল্লাহকে সমর্থন দিতে পারেন—এমন গুঞ্জন রাজনৈতিক অঙ্গনে শোনা যাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেবীদ্বার আসনে হাসনাত আব্দুল্লাহর অবস্থান সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

















