সিলেট–ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া রিহাদ আহমদ (৩৭) বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। তিনি গত সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৪২ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীও ছিলেন। রিহাদ যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বলেও জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
মঙ্গলবার ভোরে মোগলাবাজার থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া সাকেল আহমদ (৩৩) ও আক্তার হোসেন (৩৪)–এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রিহাদকে সুলতানপুর এলাকায় তার বাসা থেকে আটক করা হয়। তিনি মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে।
রিহাদকে গ্রেপ্তারের পর সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও বিএনপি সংশ্লিষ্ট নানা পোস্ট ও ছবির উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
তবে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, রিহাদ দীর্ঘদিন দলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। ২০২৩ সালের সিটি নির্বাচনের আগে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার সময় থেকেই তিনি দলের কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেন। দলের কোনো পর্যায়ে তার পদ ছিল না বলেও নিশ্চিত করেছেন নেতারা।
মহানগর বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কাউন্সিলর প্রার্থী হলেও নির্বাচনকালে তার বিএনপির আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা ছিল না। একজন নেতার ভাষায়, “দলে বড় কোনো পদ বা সক্রিয়তা না থাকায় তিনি প্রার্থী হতে পেরেছিলেন। দলীয় প্রার্থী হলে অবশ্যই পদক্ষেপ নেওয়া হতো।”
এদিকে দলের এক শীর্ষ নেতা রিহাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তার দাবি, রিহাদকে ফাঁসানোও হতে পারে।
ডাকাতির ঘটনা
গত সোমবার রাত ৩টার দিকে লালমাটিয়া–রয়েল সিটি আবাসিক এলাকা সংলগ্ন সিলেট–ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের কাভার্ড ভ্যানে ডাকাতি হয়।
একটি সাদা নোহা ও একটি সাদা প্রাইভেট কারে থাকা ৬–৭ জন সশস্ত্র ব্যক্তি ভ্যানটিকে ব্যারিকেড দিয়ে চালক ও হেলপারকে মারধর করে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে। এছাড়া তারা দুইটি মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয়।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ প্রথমে দক্ষিণ সুরমার পশ্চিমভাগ আবাসিক এলাকা থেকে সাকেলকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ–কমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল হাসান জানান, গ্রেপ্তার তিনজনই ঘটনার স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে রিহাদের বাড়ির বাউন্ডারির ভেতরে কচুর ঝোপ থেকে ডাকাতির মালামাল–সংবলিত ৩টি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা, ২টি কালো পলিথিনের বস্তা ও ২টি কার্টুন উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আসামিরা জানিয়েছে তারা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সদস্য এবং সিলেট মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত ডাকাতি করে আসছিল।
মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


















