ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করার পর কারখানার ফ্লোর ম্যানেজার তাকে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেয় বলে জানিয়েছে র্যাব। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) গ্রেপ্তারদের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করতে গিয়ে র্যাব-১৪-এর পরিচালক নাইমুল হাসান এসব তথ্য জানান।
র্যাব জানায়, এরই মধ্যে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেড কোম্পানির ফ্লোর ম্যানেজার আলমগীর হোসেন (৩৮) ও কারখানার কোয়ালিটি ইনচার্জ মিরাজ হোসেন আকন (৪৬)–কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে শ্রমিককে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব কর্মকর্তা নাইমুল হাসান বলেন, “ঘটনার সূত্রপাত হয় বিকেল ৪টার দিকে। ফ্যাক্টরির ফ্লোর ইনচার্জ দিপুকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করে। ইস্তফা দেওয়ার পর তাকে উত্তেজিত জনতার কাছে হ্যান্ডওভার করে দেওয়া হয়। পুলিশকে না জানিয়ে কেন এভাবে করা হলো এবং কেন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি—সেই দায়েই কারখানার দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
বৃহস্পতিবার রাতে ভালুকার জামিরদিয়া এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেড কোম্পানির শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহে আগুন দেওয়া হয়।
নিহত দিপু তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি প্রায় দুই বছর ধরে ওই কারখানায় কাজ করছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
ওই মামলায় র্যাব-১৪ সাতজনকে এবং পুলিশ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার অন্য আসামিরা হলেন—তারেক হোসেন (১৯), লিমন সরকার, মানিক মিয়া (২০), এরশাদ আলী (৩৯), নিঝুম উদ্দিন (২০), আজমল হাসান সগীর (২৬), শাহিন মিয়া (১৯) ও মো. নাজমুল। শেষ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব কর্মকর্তা বলেন, “কে কাকে কী বলেছে, সেই নির্দিষ্ট তথ্য এখনো কেউ দিতে পারেনি। পূর্বের কোনো শত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের অভিযোগে কাউকে হত্যা করা কোনোভাবেই আইনের আওতায় পড়ে না। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের ঘটনা কখনোই গ্রহণযোগ্য মনে করে না।”
মামলাটি যেহেতু থানায় দায়ের করা হয়েছে, তাই থানাই মূল তদন্ত করবে। পাশাপাশি র্যাবের পক্ষ থেকে ছায়া তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানান পরিচালক নাইমুল হাসান। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার কেউই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নয় এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।


















