সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান এর বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অঘোষিত সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ রয়েছে—বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে থাকা তার কিছু সম্পদ আয়কর নথি কিংবা নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। তবে আনোয়ারুজ্জামান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার সিলেটের আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়—বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তার নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করে লন্ডনের Ilford, Essex এলাকায় প্রায় ৪ হাজার বর্গফুটের বাড়ি, Talwin Street-এর ১ হাজার ৮০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট এবং Kipling Indian Restaurant–সংক্রান্ত সম্পদের তথ্য তিনি গোপন করেছেন। পাশাপাশি পূর্বাচলে রাজউকের বরাদ্দকৃত পাঁচ কাঠা জমির তথ্যও হলফনামায় দেখানো হয়নি।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে—২০২২-২৩, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৪ লাখ ৪৪ হাজার ৯৮ টাকা। তবে এই সম্পদের উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। জীবিকা, পারিবারিক ব্যয়, মেয়র হিসেবে বেতন–ভাতা মিলিয়ে গ্রহণযোগ্য অংশ পাওয়া গেলেও প্রায় ৯৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯৮ টাকা অনুপযুক্ত সম্পদ হিসেবে ধরা পড়েছে, যা দুদকের মতে অবৈধভাবে অর্জিত হতে পারে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুদক তার ঠিকানায় সম্পদ বিবরণীর নোটিশ দিতে গেলে বাসা তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। নিয়ম অনুযায়ী বাড়ির গেটে সাক্ষী রেখে ফরম টানিয়ে আসে দুদক। স্থানীয় কিছু মানুষ জানান, আনোয়ারুজ্জামান সেখানে থাকেন না—তিনি লন্ডনেই স্থায়ীভাবে থাকেন এবং ব্যবসা পরিচালনা করেন।
রোববার দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান মামলাটি আদালতে দাখিল করেন। সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট দুদক কার্যালয়ের উপপরিচালক রাফী মো. নাজমুস সাদাৎ। তিনি বলেন—নির্ধারিত সময়ে সম্পদের তথ্য না দেওয়ায় বা সময় বাড়ানোর আবেদন না করায় মামলা করা হয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী তদন্ত এগিয়ে চলবে।
এজাহারে আরও উল্লেখ আছে—আনোয়ারুজ্জামান ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে প্রায় আট মাস সিসিকের মেয়র হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে তিনি দীর্ঘ এক দশক আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসির পরিচালক পদে ছিলেন। ২০২৩ সালে সিসিক মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ৫ আগস্টের পর তিনি চুপিসারে যুক্তরাজ্যে চলে যান, পরবর্তীতে তাকে মেয়র পদ থেকে অপসারণ করা হয়।
যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত আনোয়ারুজ্জামান তার হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বলেন—“আমার কোনো অবৈধ সম্পদ নেই। যা আছে, সব আইনসম্মতভাবে অর্জিত এবং ট্যাক্স দিয়ে করা।”
তিনি আরও দাবি করেন—দুদকের নোটিশ পাওয়ার পর তার আইনজীবীর মাধ্যমে হিসাব দাখিল ও সময় চাওয়ার আবেদন করা হয়েছে। তার অভিযোগ—রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে হেয় করতে মিথ্যা মামলা করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন—দেশে প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে তিনি মামলা করবেন।


















