চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় এক বর্বরোচিত সশস্ত্র হামলার ঘটনায় জামাল উদ্দিন নামে এক জামায়াতকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নাসির উদ্দিন ওরফে ছোট নাসির নামে অপর এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শনিবার (তারিখ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জামাল উদ্দিন ও নাসির উদ্দিন ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে তাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে।
হঠাৎ হামলায় পালানোর কোনো সুযোগ না পেয়ে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন জামাল উদ্দিন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় নাসির উদ্দিনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার পরপরই ফটিকছড়ি থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছয় রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, হামলায় শক্তিশালী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে পুরো এলাকায় তল্লাশি অভিযান ও চিরুনি অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
স্থানীয়দের দাবি, নিহত জামাল উদ্দিন ও আহত নাসির উদ্দিন দুজনই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে এটি দলীয় কোন্দল নাকি পূর্ব শত্রুতার জেরে ঘটেছে—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, “গুলিতে একজন নিহত এবং একজন আহত হওয়ার বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করছি। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।”
এই ঘটনার পর ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয়রা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এটি রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হামলা কি না, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

















