ঈদের পূর্ব পর্যন্ত সিলেট নগরের ফুটপাত ও সড়কে ব্য্যবসার সুযোগ চান ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীরা। এই দাবিতে সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে বিক্ষোভ করছেন তারা। রাতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এর আগে নগরের বন্দরবাজার এলাকার সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন হকাররা।
আন্দোলনকারী একাধিক ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের উপর জুলুম করা হচ্ছে। পুলিশ গিয়ে ফুটপাতে বসা হকারদের মালামাল তুলে নিয়ে আসছে। হকারদেরও ধরে নিয়ে আসছে। কালকে বৃষ্টির মধ্যে পুলিশ হকারদের মারধর করে ধরে নিয়ে এসেছে।
এমন আচরণ অমানবিক দাবি করে তারা বলেন, ঈদের তিনদিন বাকী আছে। এই তিনদিন আমরা ফুটপাতে ব্যবসার সুযোগ চাই। ঈদ উপলক্ষ্যে অনেকে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছে। ঈদের আগে এই পণ্য বিক্রি করতে না হলে তাদের পথে বসতে হবে। তাই ঈদের পূর্ব পর্যন্ত ফুটপাতে ব্যবসার সুযোগ দিতে হবেন।
আরেকজন হকার বলেন, বাংলাদেশ একটি গরীব দেশ। এটি ইউরোপের কোন দেশ নয়। তাই ইউরোপের নিয়মকানুন এখানে চলবে না।
তিনি বলেন, আমাদের কাজও দেবেন না, আবার কারে ব্যবসার সুযোগও দেবেন না- এমনটি হতে পারে না।
ঈদের আগে ফুটপাতে ব্যবসার সুযোগের পাশাপাশি প্রতিদিন বিকেল ৫ টা পর্যন্তও ফুটপাতে পণ্য নিয়ে বসার সুযোগ দাবি করেন আন্দোলনকারী আরেক হকার।
নগরের যানজট নিরসনে গত বছরের সেপ্টেম্বরে নগরের সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বসা হকারদের লালদিঘির পাড় মাঠে পুণবার্সন করে জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন। তবে পুণবার্সনের পরও পুরোপুরি দখল মুক্ত হয়নি নগরের ফুটপাত ও সড়ক। প্রদিদনিই অনেককে ফুটপাতে পণ্য নিয়ে বসতে দেখা যায়। পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানও চালায়। তবে অভিযানের খবর আগেই পেয়ে যান হকাররা। অভিযান শুরুর পর তারা ফুটপাত থেকে সরে যান আর অভিযান শেষ হলে আবার চলে আসেন।
এবার পুলিশি অভিযানের বিরুদ্ধে ও ফুটপাতে ব্যবসার সুযোগ চেয়ে আন্দোলনে নেমেছেন হকাররা।
এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সাথে রাতে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

















