সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের রাজনীতিতে আবারও আলোচনায় এসেছে হুমায়ুন কবির ও তাহসিনা রুশদীর লুনার মধ্যে কথিত ‘মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব’। সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় পৃথক দুটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।
সোমবার সকালে ওসমানীনগরের তাজপুর ইউনিয়নের চম্পাতলী খালের খননকাজ উদ্বোধন করেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এতে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা। একই দিন দুপুরে গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের নাটকিলা খালের খননকাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না লুনা।
এর আগে শুক্রবার বিশ্বনাথে প্রয়াত বিএনপি নেতা মোহাম্মদ সুহেল আহমদ চৌধুরীর মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পারিবারিক উদ্যোগে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, হুমায়ুন কবির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকলেও ব্যানারে প্রধান বক্তা হিসেবে নাম থাকা সত্ত্বেও তাহসিনা রুশদীর লুনা অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।
স্থানীয়ভাবে সুহেল আহমদ চৌধুরী হুমায়ুন কবিরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি তাহসিনা রুশদীরের এক নির্বাচনী সভায় যোগ দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
দলীয় সূত্র বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হুমায়ুন কবির ও তাহসিনা রুশদীরের মধ্যে দূরত্বের বিষয়টি প্রথম আলোচনায় আসে। তখন উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পরে জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেন এবং সবাইকে ধানের শীষের পক্ষে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন।
বর্তমানে সিলেট-২ আসনে দুটি বলয় সক্রিয় বলে দাবি স্থানীয়দের একটি অংশের—একটি ‘উপদেষ্টা গ্রুপ’ এবং অন্যটি ‘এমপি গ্রুপ’। যদিও দলীয়ভাবে বিভেদের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাহসিনা রুশদীর লুনাও ফোনে সাড়া দেননি। তবে উভয় পক্ষের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের দাবি, প্রকাশ্যে না হলেও ভেতরে ভেতরে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা চলছে।
তাহসিনা রুশদীর লুনার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, তিনি একাধিকবার প্রয়াত সুহেল আহমদের পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং জাতীয় সংসদের অধিবেশন থাকায় সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। এখানে কোনো বলয়ভিত্তিক রাজনীতির বিষয় নেই বলেও দাবি করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে সাবেক এমপি এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর ধীরে ধীরে ওই আসনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তাঁর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। দীর্ঘদিন এককভাবে এলাকায় নেতৃত্ব দেওয়ার পর তিনি বিএনপির মনোনয়নও পান। তবে পরবর্তীতে হুমায়ুন কবির একই আসনে আগ্রহ দেখালে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়।
নির্বাচনের আগে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাহসিনা রুশদীর লুনা বিজয়ী হন। পরবর্তীতে সরকার গঠনের পর হুমায়ুন কবিরকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়।
যদিও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর দাবি, দলে কোনো বিভেদ নেই। তাঁর ভাষায়, “উভয়েই নিজ নিজ দায়িত্বে দলের জন্য কাজ করছেন, এখানে বিভেদের কোনো বিষয় নেই।


















