ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য জমা দেওয়া হলফনামায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ তার আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন।
হলফনামা অনুযায়ী, হাসনাত আব্দুল্লাহর বার্ষিক আয় ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩৯ টাকা এবং স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা। সোমবার মনোনয়নপত্রের সঙ্গে এই হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম।
হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন, তার কাছে নগদ সাড়ে ১৩ লাখ টাকা রয়েছে এবং ব্যাংকে জমা আছে ৩ লাখ ৩ হাজার টাকা। এ ছাড়া তার মালিকানায় রয়েছে ২৬ লাখ টাকার সোনা ও মূল্যবান গহনা, ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র এবং ৬৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী।
স্থাবর সম্পদের বিবরণীতে তিনি কোনো কৃষি বা অকৃষি জমি, বাড়ি কিংবা অন্যান্য স্থায়ী সম্পদের মালিক নন বলে উল্লেখ করেছেন। ফলে এসব খাত থেকে তার কোনো আয় নেই। শেয়ার, বন্ড বা সঞ্চয়পত্র থেকেও কোনো আয়ের তথ্য দেননি তিনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে এমএ ডিগ্রিধারী। বর্তমানে তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তার নামে কিংবা পিতা-মাতা, স্ত্রী ও সন্তানের নামে কোনো ঋণ বা আর্থিক দায় নেই বলেও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তিনি ১ লাখ ৫ হাজার ৫৩১ টাকা আয়কর দিয়েছেন।
হলফনামায় আরও জানানো হয়, তার স্ত্রী গৃহিনী এবং স্ত্রী ও একমাত্র ছেলে তার আয়ের ওপর নির্ভরশীল। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অভিযোগ নেই।
২৭ বছর বয়সী হাসনাত আব্দুল্লাহ এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি দেবিদ্বার উপজেলার গোপালনগর গ্রামের বাসিন্দা।
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৪ আসনটি জাতীয় সংসদের ২৫২ নম্বর আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১০ হাজার ৫৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৫ হাজার ২৩৭ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩১৯ জন। এখানে ১১৬টি ভোটকেন্দ্রের ৭২৫টি কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এই আসনে হাসনাত আব্দুল্লাহসহ মোট আটজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে বিএনপি মনোনীত চারবারের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী অন্যতম। জোটগত সিদ্ধান্তের কারণে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম শহিদ ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
মনোনয়ন জমা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমার লক্ষ্য। দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। অর্থনৈতিক মুক্তি ও সার্বজনীন ভোটাধিকার নিশ্চিত করতেই আমি রাজনীতিতে এসেছি।


















