মনোনয়নপত্র আপিলের শুনানি আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল সংক্রান্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার আদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে ৬৩০টি এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিপক্ষে ১৫টি আপিল আবেদন করা হয়েছে।
গত শুক্রবার শেষ দিন রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের আপিল কেন্দ্রে আবেদন গ্রহণ করা হয়। শেষ দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে ১৭৬টি আবেদন জমা পড়ে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা উপস্থিত হয়েছিলেন, তাদের সবার আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসি কর্মকর্তারা।
গত সোমবার থেকে আপিল আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। অঞ্চলভিত্তিক ১০টি বুথে
- প্রথম দিন জমা পড়ে ৪২টি,
- দ্বিতীয় দিন ১২২টি,
- তৃতীয় দিন ১৩১টি,
- চতুর্থ দিন ১৭৪টি আবেদন।
ইসি জানায়, গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে ৩০০ আসনে জমা পড়া ২,৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১,৮৪২টি বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং ৭২৩টি বাতিল হয়। সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ঢাকা অঞ্চলে (১৩৩টি) এবং সবচেয়ে কম বরিশাল অঞ্চলে (৩১টি)।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া ৭২৩ প্রার্থীর মধ্যে ৯৩ জন আপিল করেননি। অন্যদিকে, কয়েকটি অঞ্চলে ১৫ জন বৈধ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপিল জমা পড়েছে।
এদিকে কুমিল্লা-৪ আসনে প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির হাসনাত আবদুল্লাহ পাল্টাপাল্টি আপিল করেছেন। উল্লেখ্য, ঋণখেলাপি সংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ চেম্বার আদালত স্থগিত করায় মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
আজ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে কমিশন নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে আপিল শুনানি গ্রহণ করছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দুই দফায় শুনানি হবে। দৈনিক ৭০টি করে আপিল শুনানি হবে এবং আবেদন জমার ক্রমানুসারে শুনানি গ্রহণ করা হবে।
আপিল শুনানির সময়সূচি
- ১০ জানুয়ারি: আপিল ১–৭০
- ১১ জানুয়ারি: ৭১–১৪০
- ১২ জানুয়ারি: ১৪১–২১০
- ১৩ জানুয়ারি: ২১১–২৮০
- ১৪ জানুয়ারি: ২৮১–৩৫০
- ১৫ জানুয়ারি: ৩৫১–৪২০
- ১৬ জানুয়ারি: ৪২১–৪৯০
- ১৭ জানুয়ারি: ৪৯১–৫৬০
- ১৮ জানুয়ারি: ৫৬১ থেকে শেষ পর্যন্ত
শুনানি শেষে আপিলের ফলাফল নির্বাচন ভবনের মনিটরে প্রদর্শন করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের ই-মেইলে রায়ের পিডিএফ কপি পাঠানো হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন ভবনের অভ্যর্থনা ডেস্ক থেকেও রায়ের অনুলিপি সংগ্রহ করা যাবে।
ইসির তপশিল অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন, ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ, ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচারণা এবং ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।


















