সিলেটে কৃষি পণ্যের বাজার সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিলেটে প্রথমবারের চালু হচ্ছে ‘কৃষকের হাট’।
শনিবার থেকে নগরের টিলাগড় এলাকায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এ ‘কৃষকের হাট’ চালু হতে যাচ্ছে। সকাল ৯টায় টিলাগড় পয়েন্টের পাশে এই বাজারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিদিন সকালে টিলাগড় পয়েন্টের নির্ধারিত স্থানে এই বাজারের কার্যক্রম চলবে। এখানে সিলেটের প্রান্তিক কৃষকরা কোনো ধরনের মধ্যস্থতাকারী বা দালালের সহায়তা ছাড়াই তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করার সুযোগ পাবেন। বাজারটির মূল লক্ষ্য হলো মাঠপর্যায়ের কৃষক এবং শহরের সাধারণ ভোক্তার মধ্যে একটি সরাসরি সেতুবন্ধন তৈরি করা।
বর্তমানে একটি কৃষিপণ্য মাঠ থেকে ভোক্তার থালা পর্যন্ত পৌঁছাতে অন্তত চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়। এতে প্রতিটি স্তরে দাম বাড়লেও তার সুফল কৃষকরা পান না; বরং চাষের খরচ তোলা নিয়ে তাদের চরম ঝুঁকিতে থাকতে হয়। অন্যদিকে, সাধারণ ক্রেতাদের গুনতে হয় চড়া দাম।
এই ‘কৃষকের হাট’ চালু হলে ন্যায্য মূল্য কৃষক তার শ্রমের সঠিক দাম সরাসরি পাবেন। সাশ্রয়ী দামে বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে সতেজ ও বিষমুক্ত সবজি পাবেন সাধারণ ক্রেতারা। সিন্ডিকেট নির্মূলে মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফাখোরি প্রবণতা হ্রাস পাবে।
জানা গেছে, প্রতিদিন সকালে নগরীর টিলাগড় পয়েন্টের পাশেই বসবে এই বাজার। যেখানে সিলেটের প্রান্তিক কৃষকরা তাদের পণ্য সরাসরি বেচাকেনা করতে পারবেন। এতে কৃষকরা পণ্যের সঠিক দাম পাবেন এবং ভোক্তা পর্যায়েও পণ্যের দাম কমবে।
নাগরিকরা বলছেন,, সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর বাজারের চাপ অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি বিষমুক্ত সবজি পাওয়ার নিশ্চয়তা তৈরি হবে। প্রান্তিক কৃষকরা লাভবান হলে তারা চাষাবাদে আরও উৎসাহিত হবেন, যা আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

















