সিলেট মহানগরীর বাইপাস সড়ক এলাকায় বিমানবন্দর থানা পুলিশের একটি চেকপোস্টে তল্লাশির সময় ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল আলমের ব্যবহৃত ওয়াকিটকি ও একটি প্রাইভেটকারসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় গাড়ি থেকে একটি চাইনিজ কুড়ালও জব্দ করা হয়। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক লিটন মিয়া এবং ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির কথিত বালু-পাথর লাইনের সঙ্গে যুক্ত জুনায়েদ আহমদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক লিটন মিয়া ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল আলমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি প্রায়ই একটি প্রাইভেটকার ও ওয়াকিটকি ব্যবহার করে এলাকায় চলাচল করতেন। অভিযোগ রয়েছে, চোরাচালান সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমে তার সম্পৃক্ততা আছে। এমনকি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়েও তিনি পরিচিত করতেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এছাড়া, কয়েকদিন আগে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার তিন গ্রামের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হিসেবেও লিটন মিয়ার নাম রয়েছে। ওই ঘটনায় তিনি সেনাবাহিনীর মাধ্যমে আটক হয়ে কারাভোগও করেছেন বলে জানা যায়।
অপরদিকে, জুনায়েদ আহমদকে স্থানীয়রা ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির বালু-পাথর ও সীমান্ত দিয়ে আসা চোরাই মালামাল পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ‘লাইনম্যান’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব যানবাহন থেকে অর্থ সংগ্রহের কাজের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।
তবে এ বিষয়ে ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল আলম ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, প্রাইভেটকার ও ওয়াকিটকি তার নিজের এবং আটক লিটন মিয়া তার বন্ধু। ঘটনার সময় তিনিও গাড়িতে ছিলেন বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোম্পানীগঞ্জের পাড়ুয়া এলাকায় সম্ভাব্য সংঘর্ষের খবর পেয়ে তারা সেখানে যান এবং একটি দেশীয় কুড়াল উদ্ধার করে গাড়িতে তোলেন। পরে গাড়িতে গ্যাস নিতে যাওয়ার সময় লিটন ও জুনায়েদকে আটক করা হয়।
লিটনের বিরুদ্ধে চোরাচালান সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে তার জানা নেই। বন্ধুত্বের কারণে মাঝে মধ্যে গাড়ি ব্যবহার করতে দিতেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আর ‘লাইনম্যান’ নামে কোনো পদ নেই বলেও দাবি করেন, যদিও অতীতে এমন কার্যক্রম ছিল বলে স্বীকার করেন।
এসআই কামরুল আলম জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত তারা নেবেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. মোবাশ্বির আলী বলেন, চেকপোস্টে তল্লাশির সময় একটি প্রাইভেটকার থেকে ওয়াকিটকি ও চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়। গাড়িতে থাকা দুইজন সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় তাদের থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গাড়ি ও ওয়াকিটকির মালিকানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। যদি এগুলো ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের হয়ে থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

















