সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা। সেই ধারাবাহিকতায় সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচন।
একাধিক সূত্রের দাবি, আসন্ন সিসিক নির্বাচনে মাওলানা হাবিবুর রহমান-কে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তিনি সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসন থেকে দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যদিও ওই নির্বাচনে তিনি বিএনপি প্রার্থী খন্দকার মুক্তাদির-এর কাছে পরাজিত হন, তবুও দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছেন- জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছেন।
দলীয় সূত্র মতে, সংসদ নির্বাচন ঘিরে ঘরে ঘরে প্রচারণা চালানোর ফলে তিনি ইতোমধ্যে সিলেট নগরীর ভোটারদের কাছে পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছেন। এ কারণে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তাকে প্রার্থী করা হলে দল সাংগঠনিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে বলে তাদের বিশ্বাস।
তবে ভিন্ন সুরও শোনা যাচ্ছে। আরেকটি সূত্র বলছে, দল চাইলে প্রার্থী হতে পারেন- এমন সম্ভাবনা থাকলেও নিজে থেকে সিসিক নির্বাচনে অংশ নিতে অনাগ্রহী মাওলানা হাবিবুর রহমান। এ ধারণার পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টও সামনে এসেছে।
তার ছোট ছেলে মাজাহারুল ইসলাম মুমিন নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন-
“একজন মানুষকে আর কত জায়গায় কতবার কুরবানী দিবেন? নিজেদের মধ্যে থেকে জননেতা তোলার সাহস ও যোগ্যতা কি নাই? #সিসিক”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পোস্ট ইঙ্গিত করে যে পরিবার থেকে অন্তত আপাতত সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে অনাগ্রহ রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে দলীয় নীতিনির্ধারকদের অবস্থান ও রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর।
এদিকে সিলেট নগর রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা যত এগোচ্ছে, ততই জমে উঠছে সিসিক নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। এখন দেখার বিষয়—শেষ পর্যন্ত জামায়াত কাকে প্রার্থী ঘোষণা করে এবং মাওলানা হাবিবুর রহমান নিজে কী সিদ্ধান্ত নেন।
















