সুনামগঞ্জে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে দেখা করতে এসে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বাঁধনপাড়া এলাকার সোহেল মিয়া (৩০), বড়পাড়া এলাকার মাসুম মিয়া (২৫) এবং গণিপুর এলাকার মোহাম্মদ এরশাদ (৩৪)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ওই কিশোরীর সঙ্গে সুনামগঞ্জের এক যুবকের (ভৈরব) ফেসবুকে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সুবাদে কিশোরীটি গত রোববার সুনামগঞ্জে ওই যুবকের সঙ্গে দেখা করতে আসে। তবে দেখা হওয়ার পর উভয়ের ধর্ম ভিন্ন হওয়ায় তাঁরা পারস্পরিক সম্মতিতে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে ওই কিশোরীর নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য যুবকটি তাঁর বন্ধু সোহেল মিয়ার বাসায় তাকে রেখে আসেন। সেখানে সোহেল মিয়া বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে সোহেলের মা কিশোরীটিকে বাসা থেকে চলে যেতে বললে, সোহেল তাকে সিলেটে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাঁর দুই বন্ধু এরশাদ ও মাসুমের জিম্মায় দেন।
তবে এরশাদ ও মাসুম কিশোরীটিকে সিলেটে না নিয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান এবং একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভেতরে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে ওই কিশোরী কান্নাকাটি শুরু করলে তাঁরা তাকে বিশ্বম্ভরপুর শহরের ওয়েজখালী এলাকার একটি বাসায় আটকে রাখেন। ওই বাসার মালিক বিষয়টি সোহেলকে জানালে তিনি কিশোরীটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরী বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, অভিযোগ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। ভুক্তভোগী কিশোরীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।


















