চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) প্রাঙ্গণে ২০০২ সালে সংগীতপ্রেমীদের জন্য ঘটেছিল এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। বাংলাদেশের কিংবদন্তি রক ব্যান্ড এলআরবি (LRB) এর নেতৃত্বে প্রয়াত রক আইকন আয়ুব বাচ্চু সেদিন টানা ৭৪টি গান পরিবেশন করে গড়েছিলেন এক অনন্য সংগীত ইতিহাস।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ওই কনসার্ট শুরু হয়েছিল গভীর রাতে রাত প্রায় ২টার দিকে। সময় গড়ালেও দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়েনি এক মুহূর্তের জন্যও। অবিশ্রান্ত শক্তি ও আবেগ নিয়ে আয়ুব বাচ্চু ও তার ব্যান্ডমেটরা একের পর এক জনপ্রিয় গান পরিবেশন করতে থাকেন। ভোরের আলো ফোটার আগ পর্যন্ত চলতে থাকা এই সংগীতযজ্ঞ শেষ হয় সকাল আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে।
দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই লাইভ পারফরম্যান্সে এলআরবি তাদের কালজয়ী গানগুলোর পাশাপাশি নতুন ও শ্রোতাপ্রিয় বহু গান পরিবেশন করে। ক্লান্তি, সময় কিংবা শারীরিক সীমাবদ্ধতা কোনো কিছুই যেন আয়ুব বাচ্চুর কণ্ঠ ও গিটারের তালে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। বরং প্রতিটি গানের সঙ্গে সঙ্গে আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল পুরো ক্যাম্পাস।
সেই সময় উপস্থিত থাকা অনেক শিক্ষার্থী ও সংগীতপ্রেমীর মতে, এটি শুধু একটি কনসার্ট ছিল না ছিল বাংলাদেশি রক সংগীতের ইতিহাসে এক সাহসী ও বিরল দৃষ্টান্ত। এত দীর্ঘ সময় ধরে টানা লাইভ পারফরম্যান্স, তাও প্রায় ৭৪টি গান—দেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে এমন ঘটনা তখন ছিল অভাবনীয়।
আয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে বাংলাদেশ হারিয়েছে তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংগীতস্রষ্টাকে। তবে চুয়েটের সেই রাত আজও স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করে লিখে যেখানে একজন শিল্পী প্রমাণ করেছিলেন, সংগীত কেবল পেশা নয়, এটি এক ধরনের সাধনা।
আজও ২০০২ সালের সেই ঐতিহাসিক রাতের কথা স্মরণ করলে সংগীতপ্রেমীদের মনে গর্বের সঙ্গে উচ্চারিত হয় একটাই নাম—আয়ুব বাচ্চু ও এলআরবি।


















