সিলেট নগরীতে অপরাধ দমনে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি যেন নতুন গতি পেয়েছে। টানা এক সপ্তাহের বিশেষ অভিযানে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) উদ্ধার করেছে বিপুল পরিমাণ মাদক ও চোরাচালান পণ্য। গ্রেফতার হয়েছে দুই শতাধিক অপরাধী, বন্ধ হয়েছে অসামাজিক কার্যকলাপের একাধিক আস্তানা। এ নিয়ে শহরজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। নগরবাসীর আশা—‘অপরাধমুক্ত সিলেট’ গড়ার এই উদ্যোগ বদলে দেবে শহরের চিত্র।
সপ্তাহব্যাপী অভিযানে পুলিশ উদ্ধার করেছে ২৫০ পিস ইয়াবা, ৫৮৭ বোতল বিদেশি মদ, ২০০ গ্রাম গাঁজা এবং ১০২ লিটার চোলাই মদ। একইসঙ্গে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে উদ্ধার হয়েছে কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিদেশি পণ্য।
চোরাচালানবিরোধী অভিযানে জব্দ করা হয়েছে ভারতীয় অবৈধ ২ হাজার ৭১ পিস শাড়ি, ৩১ প্যাকেট চকলেট, ১ হাজার ৬০০ পিস স্কিন কেয়ার ক্রিম, ১ লাখ ৬৮ হাজার শলাকা বিড়ি এবং ৭৭০ প্যাকেট বিদেশি সিগারেট। এসব পণ্যের বাজারমূল্য আনুমানিক কোটি টাকারও বেশি বলে জানিয়েছে এসএমপি সূত্র।
অভিযানের অংশ হিসেবে গ্রেফতার হয়েছে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত ১২ জন, মাদক ব্যবসায়ী ১৬ জন, তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী ১০ জন, চিহ্নিত চোর ২৪ জনসহ মোট দুই শতাধিক ব্যক্তি। পাশাপাশি বিভিন্ন অভিযোগে ৪৬৯টি যানবাহন আটক করা হয়েছে।
এ ছাড়া নিয়মিত অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ৬টি হোটেল সিলগালা করেছে পুলিশ।
নগরবাসীর মতে, পুলিশের এমন কঠোর ও দৃশ্যমান তৎপরতা দীর্ঘদিন পর দেখা গেল। তারা আশা করছেন, এই অভিযান অব্যাহত থাকলে সিলেট খুব শিগগিরই রূপ নেবে ‘অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ শহরে’।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি উত্তর) ও মিডিয়া অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন- সিলেটকে মাদকমুক্ত ও অপরাধমুক্ত নগরীতে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য। এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে।


















