দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে সিলেট-৪ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে আরিফুল হক চৌধুরীর নাম। তবে মনোনয়ন নিশ্চিত হলেও নির্ভার হতে পারছেন না তিনি। বরং নিজের দলের ভেতর থেকেই তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন।
শুক্রবার গোয়াইনঘাটে তাঁর বিরুদ্ধে মশাল মিছিল হয়, যেখানে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়ে স্থানীয় প্রার্থী দেওয়ার দাবি জানান। বক্তারা বলেন, তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে প্রার্থী দিলে নির্বাচনী ফলাফল ইতিবাচক নাও হতে পারে। তাই তারা আরিফুল হককে বয়কটের ঘোষণা দেন।
এক মাসের জল্পনা–কল্পনার পর বৃহস্পতিবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিলেট-৪ আসনে আরিফুলের মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। এতে প্রার্থীতা নিয়ে তাঁর জটিলতা কাটলেও মাঠে নতুন করে প্রতিরোধ শুরু হয়েছে।
এ আসনের আঞ্চলিকতার প্রশ্ন তুলে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছেন গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুল হাকিম চৌধুরী। প্রার্থী ঘোষণার পর তাঁর সমর্থকেরা এলাকায় শোডাউন ও মশাল মিছিল করেন। হাকিম চৌধুরী জানিয়েছেন, স্থানীয়দের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি প্রার্থী বিষয়ে রিভিউ চেয়েছেন।
৬ নভেম্বর থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নামেন আরিফুল হক চৌধুরী। তখনও দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল না। অথচ তাঁর বিপক্ষে অবস্থান নেয় বিএনপির বড় একটি অংশ, যারা “আর নয় বিদেশি—এবার চাই দেশি” স্লোগানে প্রচারণা চালায়।
স্থানীয়দের মতে, সিলেট-৪ আসনে স্থানীয় প্রার্থী হলে ভোটের সমীকরণ আরও শক্তিশালী হতো। কারণ অতীতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অধিকাংশই ঢাকায় বা সিলেট শহরে অবস্থান করায় সাধারণ ভোটারদের কাছ থেকে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
তবে আঞ্চলিকতা ইস্যুকে চ্যালেঞ্জ মানতে নারাজ আরিফুল হক চৌধুরী। তাঁর দাবি—সময়ের সঙ্গে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামবেন।
ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,
“আপনারা কোনো ষড়যন্ত্রে পা দেবেন না। আর্থিক বা বেহেশতের মিথ্যা প্রলোভনে পড়ে নিজের ইমান নষ্ট করবেন না।”


















