সিলেটের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ঘাটতি কাটিয়ে নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর। বুধবার বিকেলে নগরীর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে ‘সিলেট উন্নয়ন ও রূপান্তর ঘোষণাপত্র’ শিরোনামে নিজের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি।
ইশতেহারে সিলেটের সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সিলেটকে আইটি ও ইনোভেশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান মুক্তাদীর। তরুণদের জন্য আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, সরকারি উদ্যোগে কো-ওয়ার্কিং স্পেস, ওয়ান স্টপ ক্যারিয়ার অ্যান্ড জব সেন্টার এবং স্টার্টআপ ফান্ড গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
কৃষি খাতে আধুনিক সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করে ফসল উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি শাকসবজি রপ্তানিতে সিলেটকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কোল্ড স্টোরেজ ও এগ্রো-প্রসেসিং ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগের কথাও রয়েছে ইশতেহারে।
স্বাস্থ্য খাতে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, আইসিইউ সেবা সহজলভ্য করা এবং নতুন হাসপাতাল স্থাপনের অঙ্গীকার করা হয়েছে। শিক্ষা খাতে বিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়।
এছাড়া নগর উন্নয়নে জলাবদ্ধতা নিরসন, যানজট কমাতে আধুনিক পার্কিং ব্যবস্থা, খেলার মাঠ ও সবুজায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ আধুনিকায়ন এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কথা উল্লেখ করা হয়।
ইশতেহার ঘোষণাকালে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর বলেন,
“সিলেটের উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামো নয়, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
অনুষ্ঠানে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

















