দেশের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী একটি বিস্তৃত বৃষ্টি বলয় এমন তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম। সংস্থাটি বলছে, এর প্রভাবে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে, আর কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এক ফেসবুক বার্তায় তারা জানায়, এটি চলতি বছরের পঞ্চম বৃষ্টি বলয়। এর প্রভাবে দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ এলাকায় কমবেশি ঝড়বৃষ্টি দেখা দিতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকবে সিলেট বিভাগ। পাশাপাশি ময়মনসিংহ বিভাগ, রংপুর বিভাগ, ঢাকা বিভাগ এবং চট্টগ্রাম বিভাগ-এর উত্তরাঞ্চলেও বৃষ্টির সক্রিয়তা বেশি থাকতে পারে। অন্যদিকে বরিশাল বিভাগ ও খুলনা বিভাগ-এর অনেক এলাকা মাঝারি পর্যায়ে এবং রাজশাহী বিভাগ-এর কিছু অংশ তুলনামূলক কম সক্রিয় থাকতে পারে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ২৬ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই বৃষ্টি বলয়ের প্রভাব থাকবে। এর আগের দিন, ২৫ এপ্রিলেও দেশের উত্তরাঞ্চলসহ কিছু স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি তীব্রতা দেখা যেতে পারে ২৮ এপ্রিল থেকে ২ মে এবং ৪ ও ৬ মে।
এই সময়ে বিশেষ করে সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের নিচু ও বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এছাড়া সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জ জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়াও, ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড়ি ঢল নামতে পারে। এর প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের নদ-নদী ও হাওরাঞ্চলে পানি দ্রুত বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা বৃষ্টির কারণে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। তাই সংশ্লিষ্টদের আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


















