সিলেটে বারবার সতর্কতা ও সংবাদ প্রকাশের পরও ‘মধুফাঁদ’ বা হানিট্র্যাপের ফাঁদে পা দিচ্ছেন অনেক পুরুষ, বিশেষ করে যুবকরা। এমনই এক ঘটনায় জিল্লুর রহমান (২৭) নামে এক যুবক অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং চক্রের ২ নারীসহ ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।
সোমবার (১ জুন) রাতে ঘটনাটি ঘটে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. মনজুরুল আলম জানান, কিছুদিন আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মীম আক্তার নাহিদা (২২) নামে এক তরুণীর সঙ্গে জিল্লুর রহমানের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলতে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে মীম আক্তার জিল্লুরকে দেখা করার জন্য ডেকে নেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি এয়ারপোর্ট থানার ইলেকট্রিক সাপ্লাই রোডের বড়বাজার গলির মুখে পৌঁছালে মীম আক্তার ও তার সহযোগীরা তাকে ঘিরে ধরে মারধর করে। পরে জোরপূর্বক একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে কুনিপাড়া এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে একটি বসতঘরে জিল্লুরকে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ সময় তার পকেটে থাকা ৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং আরও ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
নির্যাতনের একপর্যায়ে জিল্লুর রহমান চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পান এবং জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে এয়ারপোর্ট থানার একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জিল্লুর রহমানকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তদের আটক করে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— কুনিপাড়ার মীম আক্তার নাহিদা (২২), একই এলাকার মিল্লাত (২০), মিল্লাতের মা শিল্পি বেগম (৪০), শাহপরাণ থানার কল্পগ্রাম এলাকার এমরান খান (২৪) এবং সুরমা গেইট এলাকার স্বপন আহমেদ (২৩)।
পরে জিল্লুর রহমান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে ওই মামলায় পাঁচজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, সিলেটে ‘হানি ট্র্যাপ’ বা ‘মধুফাঁদ’ চক্রের তৎপরতা নতুন নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করলেও পুরো নেটওয়ার্ক এখনো নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষকে সামাজিক যোগাযোগ ও অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।


















