অবশেষে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর পর আবারও আলোচনায় এসেছে বহু প্রতীক্ষিত এ প্রকল্প। আগামী বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ চলবে।
প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পদ্মা নদীতে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার মূল বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডার স্লুইস এবং ২টি ফিশ পাস। এই বাঁধের মাধ্যমে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
সংরক্ষিত পানি ব্যবহার করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ নদী- হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদীর প্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে এসব নদীতে প্রায় ৮০০ কিউসেক মিটার পানি সরবরাহ করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা পৌঁছাবে। এর ফলে বছরে প্রায় ২৪ লাখ টন ধান এবং ২ দশমিক ৩৪ লাখ টন মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া প্রকল্পে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যাবে বলে আশা করছে সরকার।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জুনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, ‘এটি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ। একনেক সভায় বিস্তারিত আলোচনা শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের ফারাক্কা বাঁধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে পদ্মার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পানির সংকট, নদী শুকিয়ে যাওয়া, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পদ্মা ব্যারাজ নির্মিত হলে এসব সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
পরিবেশ ও পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত বলেন, ‘এটি নতুন কোনো প্রকল্প নয়। ১৯৬৪ সাল থেকেই এ নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রকল্পটির উপকারিতা নিয়ে প্রশ্ন নেই, তবে অর্থায়ন বড় চ্যালেঞ্জ।’
অন্যদিকে, বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক মাশফিকুস সালেহীন বলেন, ‘সুন্দরবন অঞ্চলে লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। স্বাদু পানির সরবরাহ বাড়াতে এ বাঁধের বিকল্প নেই।’
উল্লেখ্য, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ প্রথম নেওয়া হয় পাকিস্তান আমলে। পরে ২০০২ সালে বিএনপি সরকারের সময় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। দীর্ঘ সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা প্রণয়নের পর অবশেষে প্রকল্পটি অনুমোদনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

















