লন্ডনের একটি রেস্টুরেন্টে অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতার মধ্যেই বাংলাদেশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালুর ধারণা আসে এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২ মে) বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম-এ আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের এই ক্রীড়া কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বিষয়টি তুলে ধরেন।
নিজের সেই স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি তখন লন্ডনে অবস্থান করছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং আরও কয়েকজন ঘনিষ্ঠজন। একসঙ্গে খাবার টেবিলে বসে ক্রীড়া নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েই ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালুর পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই আয়োজন তাদের জন্যই। দেশজুড়ে অংশগ্রহণকারী তরুণরা ভবিষ্যতে ক্রীড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরবে এবং প্রত্যেকে দেশের প্রতিনিধি হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তরুণ প্রজন্মের প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তাদের হাতেই যাবে। তাদের মধ্য থেকেই আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়, পেশাজীবী এবং নেতৃত্ব তৈরি হবে যারা দেশকে সামনে এগিয়ে নেবে।
বিকেল সাড়ে ৪টায় তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে পুরো স্টেডিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। এর আগে জাতীয় সঙ্গীতের সুর বাজানো হলে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। পরে পবিত্র কোরআন, গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল থেকে পাঠ করা হয় এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
উদ্বোধনের আগে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্রীড়া খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা অপ্রকাশিত প্রতিভা খুঁজে বের করার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
এই প্রতিযোগিতায় ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী অংশগ্রহণকারীরা ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, দাবা, অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ মোট ৮টি ইভেন্টে অংশ নিতে পারবে। দেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে এবং আগামী ১৩ থেকে ২২ মে’র মধ্যে আঞ্চলিক পর্যায়ের কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ‘নতুন কুঁড়ি’ নামে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু করেছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর এবার সেই উদ্যোগকে ক্রীড়া খাতে নতুন রূপে ফিরিয়ে আনা হলো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ হিসেবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


















