আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক), সিলেটের উদ্যোগে মানবতার সেবায় ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন হিসেবে চলাচলে অক্ষম ব্যক্তিদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ, দুই দম্পতিকে বিবাহোত্তর সংবর্ধনা এবং এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকাল ৩টায় নগরীর আলমপুরস্থ ফিজা এন্ড কোং-এর কনফারেন্স হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আসকের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান রকিব আল মাহমুদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মারজান খান। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
আসকের সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম ও সিলেট জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিমের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. নজরুল হক চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও আসকের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দা শিরিন আক্তার, ফিজা এন্ড কোম্পানির চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, আসকের উপদেষ্টা মো. মামুন রশীদ, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলজার আহমেদ হেলাল এবং আসক সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এম এ ওয়াদুদ আল মামুন।
স্বাগত বক্তব্য দেন আসকের সিলেট জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান খন্দকার রানা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. নজরুল হক চৌধুরী বলেন, আইন সহায়তা কেন্দ্র-আসক মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি এ কার্যক্রমকে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের মানবাধিকার রক্ষায় আসকের কার্যক্রম প্রশংসনীয় এবং এর ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবতা এবং এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ। অতিথিরা নিজ হাতে এসব হুইলচেয়ার তুলে দেন। এছাড়া নবদম্পতিদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয় এবং তাদের সুখী ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা ও বিভাগীয় কমিটির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও মানবাধিকারকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে রকিব আল মাহমুদ বলেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আসকের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শেষে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

















