সিলেটে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক তরুণকে ডেকে নিয়ে ফাঁদে ফেলে নির্যাতন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় র্যাবের অভিযানে এক আসামিকে আটক করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানাধীন বাদে রণকেলী এলাকার মাহমুদুল হাসান রিফাত (২৫) পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে আব্দুল জলিলের মাধ্যমে জেসমিন আক্তারের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে কথাবার্তা চলতে থাকে। গত ৯ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে রিফাত তার এক বন্ধুকে নিয়ে জেসমিন আক্তারের সঙ্গে দেখা করতে সিলেটের কোতোয়ালী মডেল থানাধীন যতরপুর এলাকার একটি বাসায় যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন ব্যক্তি বাসায় প্রবেশ করে ধারালো চাকু দিয়ে ভয়ভীতি দেখায় এবং তাদেরকে ইলেকট্রিক শক দেয়। এক পর্যায়ে জোরপূর্বক কাপড় খুলে উলঙ্গ করে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, নগদ ১৫ হাজার টাকা, একটি রূপার চেইন ও একটি রূপার ব্রেসলেট নিয়ে নেওয়া হয়।
পরে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। মান-সম্মানের ভয়ে ভিকটিমরা পরিচিতজনদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৯০ হাজার টাকা এনে অভিযুক্তদের দেন।
এ ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (৬ মে) রাত আনুমানিক ১টা ৩৫ মিনিটে র্যাব-৯, সদর কোম্পানীর একটি দল সিলেটের শাহপরান থানাধীন মিরের চক এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি গোলাপগঞ্জ উপজেলার তুরুকবাগ এলাকার রমিজ উদ্দিনের ছেলে বকুল আহমদ জিহাদ (৩০) কে আটক করে।
র্যাব জানায়, এর আগে একই মামলার আরও একজন আসামিকে আটক করা হয়েছিল। আটককৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোতোয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

















