সিলেট বিভাগজুড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে লোডশেডিং। শহরে কিছুটা বিদ্যুৎ থাকলেও গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। অনেক এলাকায় দিনে ও রাতে মিলিয়ে ৬–৭ ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ পাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। সিলেট নগরীতে দৈনিক গড়ে প্রায় ৬ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে এবং কিছুদিনে প্রায় ৭০% সময় বিদ্যুৎ ছিল না।
গ্রামে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ
সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় পরিস্থিতি ভয়াবহ।
- কোথাও ৭–৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ নেই
- আবার কিছু এলাকায় দিনে ১৫ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না
গরম আবহাওয়ায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়ছেন।
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগ
আগামী SSC Examination শুরু হওয়ার আগে এই পরিস্থিতি নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় বড় বাধা তৈরি হচ্ছে।
ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক ক্ষতি
লোডশেডিংয়ের কারণে—
- দোকানপাট আগেভাগেই বন্ধ করতে হচ্ছে
- কফিশপ, রেস্টুরেন্ট, ফাস্টফুড ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত
- ফ্রিজ ও মেশিন বন্ধ থাকায় পণ্যের ক্ষতি হচ্ছে
ব্যবসায়ীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এভাবে চললে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
মূল কারণ কী?
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী—
- সিলেটে চাহিদা: ১৭৫ মেগাওয়াট
- সরবরাহ: ১৪৫ মেগাওয়াট → ঘাটতি: ৩০ মেগাওয়াট
পল্লী বিদ্যুতে—
- চাহিদা: ৫৪৬ মেগাওয়াট
- সরবরাহ: ৪১৬ মেগাওয়াট → ঘাটতি: ১৩০ মেগাওয়াট
এছাড়া হবিগঞ্জের বিবিয়ানা বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় সংকট আরও বেড়েছে।
অদ্ভুত তথ্য: প্রধান প্রকৌশলীর ‘অজ্ঞতা’
পিডিবি সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী
মোহাম্মদ ইমাম হোসেন প্রথমে দাবি করেন—
“সিলেটে লোডশেডিং হচ্ছে, আমার জানা নেই।”
পরে অবশ্য তিনি স্বীকার করেন, বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে রোটেশন ভিত্তিতে লোডশেডিং চলছে।
নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই
গ্রিড থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় কোনো নির্দিষ্ট শিডিউল নেই।
হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে
অভিযোগ করলেও অনেক সময় ফোন রিসিভ করা হয় না
প্রশাসনের বক্তব্য
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন—
- বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে সাময়িক সংকট
- জ্বালানি সংকট ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব রয়েছে
- পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে


















