বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমিন আগামী ৮ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত মালয়েশিয়া সফর করবেন। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর আমন্ত্রণে এই সফরে তারা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে সাধারণ কর্মী নিয়োগ পুনরায় চালুর বিষয়টি প্রধান আলোচ্যসূচি হিসেবে গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসন বিভাগের জারিকৃত এক সরকারি আদেশে এ সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সফরকালে ‘কর্তব্যরত’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সফরের যাবতীয় ব্যয় বহন করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
প্রায় দুই বছর ধরে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে সাধারণ কর্মী নিয়োগ বন্ধ রেখেছে। তবে একই সময়ে নেপালসহ অন্যান্য দেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এই সফরকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি ও দেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে একটি ফোরাম জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করে অতীতের সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে এবং নতুন কোনো সিন্ডিকেট গঠনের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছে। এর আগে আরেকটি সংগঠন বিএমইটি ঘেরাও করে একই ধরনের দাবি তোলে।
অতীতে মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশের বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ে ১০টি শর্ত আরোপ করলে তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর এজেন্সিগুলো এসব শর্তে আপত্তি জানায়। পরবর্তীতে তৎকালীন সরকার মালয়েশিয়ার শর্ত অনুযায়ী এজেন্সির তালিকা পাঠালেও সেই তালিকার বিস্তারিত তথ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
২০২৪ সালের ১ জুন থেকে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ করে মালয়েশিয়া সরকার। এতে নির্ধারিত সময়ে বিদেশ যেতে না পারায় অনেক কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও রিক্রুটিং এজেন্টরা নির্ধারিত ৭৯ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছে, অনেক কর্মী অভিযোগ করেছেন যে তাদের মোট ব্যয়ের পুরো অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি।
রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এ প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এ সংক্রান্ত একাধিক মামলা বর্তমানে পুলিশ, সিআইডি, দুদক ও আদালতে বিচারাধীন।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, মানবপাচার ও অর্থপাচার সংক্রান্ত অভিযোগে মালয়েশিয়ার নাম জড়ানোয় দেশটি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ২০২৩ সালে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দুই দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতির অভিযোগও আলোচিত হয়। তবে মালয়েশিয়া সরকার তাদের দেশে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেছে।

















