প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে যাচ্ছেন শনিবার (২ মে)। এই সফরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে তাঁর বিস্তারিত কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে।
প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টায় তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ অবতরণ করবেন। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় হযরত শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারত করবেন। সকাল ১১টায় নগরের চাঁদনীঘাট এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে সিলেট সিটি করপোরেশনের একটি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন তিনি। পরে দুপুর ১২টায় সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ে বাসিয়া খাল খনন কাজের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ এর উদ্বোধন এবং বিকেল ৫টায় সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই সফরের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে সিলেটের জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি। প্রতি বর্ষায় অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই নগরের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যাওয়ার পুরোনো সমস্যা এখনও বহাল রয়েছে। বিশেষ করে সুরমা নদী-এর নাব্যতা কমে যাওয়া এবং শহরের ছড়া-খালগুলোর স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
এ অবস্থায় সফরকালে একটি বড় প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে, যার লক্ষ্য জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করা। সিলেট সিটি করপোরেশনের পরিকল্পনায় নদীতে পতিত বিভিন্ন খাল ও ছড়ায় স্লুইসগেট নির্মাণ, নদীর তীর উঁচু করা, বন্যা প্রতিরোধ বাঁধ নির্মাণ এবং ওয়াকওয়ে তৈরি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে কয়েক হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে বিদেশি ঋণ ও অনুদান পাওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্ষাকালে সুরমা নদী-এর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে স্লুইসগেট বন্ধ রেখে শহরে পানি প্রবেশ ঠেকানো হবে। একইসঙ্গে নদীর তীর উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে আধুনিক নগর অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সিলেটের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দিতে পারে।

















